রবিবারেও ভিড় নেই পুজোর বাজারে
দি নিউজ লায়ন ; জমলো না রবিবারের পুজোর বাজার। ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী। হাতে গুনে আর মাত্র পুজোর বাকি ১৮ দিন। পুজোর এই মাসের প্রথম রবিবার সকাল থেকে কার্যত খদ্দেরের ভিড় অধিকাংশ পোশাক থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রীর ও অন্যান্য রকমারি দোকানের দেখা গেল না। করোণা সংক্রমণ যে সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
তার উপর রবিবার সকাল বেলাতেই অঝোরে বৃষ্টি হয়েছে মালদা শহরে যার কারণে এদিন দুপুর থেকে বাজারহাট কার্যত শুনশান ছিল। বলাবাহুল্য, পুজোর সময় নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকতো না ব্যবসায়ীদের। এখন তারা সকাল থেকেই দোকানে মাছি তাড়াচ্ছেন। এরকম সময় যে আসতে পারে তা কল্পনাতেও ছিল না মালদা শহরের বিভিন্ন মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের।
যারা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বেচাকেনা করেছেন। এখন তাদের কাছে দিন মানে দুই থেকে তিন হাজার টাকা বেচাকেনা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপূজা নিয়ে কোনোরকম উৎসাহ বা আগ্রহ নেই শহরের অনেক ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
উল্লেখ্য , মালদা শহরের চিত্তরঞ্জন পুরো মার্কেট, মকদমপুর বাজার, ঝলঝলিয়া কাজী আজহারউদ্দিন মার্কেট, নেতাজি পুরো মার্কেটে অসংখ্য জামাকাপড় , কসমেটিকস, জুতো সহ নানান ধরনের প্রসাধনী সামগ্রীর দোকান এবং শোরুম রয়েছে। এছাড়াও মালদা শহরের রাজমহল রোড, কেজে সান্যাল রোড , রবীন্দ্র এভিনিউ, রথবাড়ি, মনস্কামনা রোড এলাকায় একাধিক শপিংমল রয়েছে। সেইসব এলাকার দোকান শপিংমলেও কার্যত শুনসান। সকাল ১০ টা বাজতেই রীতিমতো প্রসাধনী সামগ্রী কেনার জন্য খদ্দেরদের লম্বা লাইন পড়ে যেত শপিং মলগুলিতে।
এখন সেখানে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোশাক সহ নানান সামগ্রী বিক্রির জন্য প্রচার চালাতে হচ্ছে। যাতে করে খদ্দের টানা যায়। এমন পরিস্থিতি বিগত দিনে তৈরি হয় নি বলেও জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মালদা শহরের চিত্তরঞ্জন পুরো মার্কেটে রয়েছে নানান ধরনের পোশাকের দোকান এবং শোরুম। এক কাপড় ব্যবসায়ী সুবীর সাহা বলেন, সকাল থেকে দোকানে বসে রয়েছি। সন্ধ্যায় হাতে গোনা দুই একটি খদ্দের আসছে। তাও এত দাম দর করছে যে, লোকসানে করেই পোশাক বিক্রি করতে হচ্ছে। দোকানে চারজন কর্মচারী, লাইটের বিল এসি চলছে। এসবের টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
এবছর যেভাবে লোকসানের মুখে আমাদের পড়তে হয়েছে, তার বলার অপেক্ষা রাখে না। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু বলেন, করোণা সংক্রমণের জেরেই ব্যবসায়ীরা একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে। পুজোর মুখে বিভিন্ন দোকানে মাছি তাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা। লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন বহু ব্যবসায়ীরা। পুজোর আনন্দ কি ভাবে থাকবে। জানিনা আগামী দিনে পরিস্থিতি কি হবে। তবে আমরা প্রত্যেকেই চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হোক এই করোনা সংক্রমণ যেন দেশ থেকে বিদায় হয়।

Post a Comment